
আমাদের ব্রেক-আপ হয়ে গেছে
-প্রীতম গুহ
আমার ব্রেকাপ হয়ে গেছে গত কাল। রাগের মাথায় এসে ওর গায়ে হাত তুলেছিলাম, আর এটা ও নিতে পারেনি। মাঝরাস্তাতেই হাত ছেড়ে দিয়ে সে তার সিদ্ধান্ত জানায় যে এই রিলেশনশিপে সে আর থাকতে পারবে না। আমিও তখন সেই মুহূর্তে সাধিনি ঠিকই তবে বাড়ি ফেরার পথে মনটা বেশ আনচান করছিল। আর অন্যায়টা তার যথেষ্ট ছিল, নাহয় এক ঘা দিয়েই ফেলেছি, তাতে হয়েছেটা কি? তাই বলে ব্রেকাপ করতে হবে?।
সারাদিনের ক্লান্ত মন যখন বাড়ি ফিরল তখন আরেক অশান্তির সূচনা। বাড়ি ফিরতেই দেখলাম বাবা আর মায়ের মধ্যে প্রচণ্ড তর্কবিতর্ক চলছে, চেঁচামিচি আর বাবার কথায় জড়তা। ডাইনিং-এর সমস্ত মেঝেময় কাঁচের গ্লাসের ভাঙা টুকরোগুলি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বুঝলাম বাবা আজও ড্রিঙ্ক করে মায়ের গায়ে হাত তুলেছে। এইরকম অশান্তি আমি ছোট থেকে নিয়মিত দেখে বড় হয়েছি, তাই মায়ের সাথে সাথে আমারও কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেছে।
ঘরে বাইরের অশান্তি, উঃ! আমি শেষ হয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে মনে হয় সত্যিই দূরে কোথাও চলে যাই মাকে সাথে নিয়ে, বাবা থাকুক একা। অগত্যা নিচতলার অশান্তিকে উপেক্ষা করে ওপরে নিজের ঘরে এসে AC টা চালিয়ে শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর, চোখ জড়িয়ে আসছে। বাড়ি আসার পর থেকে ঐ মেয়ে একটিবারও জানতে চাইলো না যে আমি ঠিকমতন পৌঁছেছি কিনা? যাকগে মরুক। আমি ওর ব্যাপারে ভাবতেও চাইনা। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়ছি জানিনা, ঘুমটা ভাঙল একটা স্পর্শে, কে যেন মাথায় হাত রাখল- "খেতে চল, রাত হয়েছে।"
- "মাতালটা ঘুমিয়েছে?"
- "চুপ! বাবা হয়, বলতে নেই।"
আমার মাথায় বোলানো মায়ের হাতটা থামিয়ে মাকে বললাম- "আচ্ছা মা তুমি এই লোকটাকে ছেড়ে দিচ্ছো না কেন? চলো না আমি তুমি আলাদা থাকি।"
মা প্রশ্নের উত্তরটা এড়িয়ে বলল- "তোর বাবাকে খেতে দেবো, যাই ডাকি গিয়ে, হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তুইও খেতে আয়, আর যেন ডাকতে না হয়।"
মা আমার বিছানা ছেড়ে উঠে যেতেই আমি আবারও মাকে বলে উঠলাম- "রোজ অশান্তি করে, রোজ তোমার গায়ে হাত তোলে, সেই ছোট্ট থেকে দেখে আসছি আমি। রোজ অশান্তি হলেই তুমি বাবাকে বলো যে ডিভোর্স দিয়ে দেবে কিন্তু খাবার সময় সব ভুলে গিয়ে খেতে ডাকো। কেন মা?"
মা পিছন ফিরে একটা মৃদু হাসি হাসল, উত্তর দিলো না, তারপর বাবাকে খেতে ডাকতে চলে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তেই আমার ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল, ওর SMS- "খেয়েছিস?"
কেন জানি না মা আর গার্লফ্রেন্ডকে আজ এক লাগল, কোনো তফাৎ নেই, আর কেন জানি না বাবার সাথে আমার চরিত্রের হুবহু মিল পেলাম। পুরুষের ক্ষমতা থাকলেও নারীর সহ্যক্ষমতাই শেষপর্যন্ত সংসার এবং সম্পর্ককে ধরে রাখে। মায়ের হাসিটা হাসি ছিল না সেটা ছিল সহ্যশক্তি। এই সহ্য ক্ষমতা থাকে বলেই সহ্য ক্ষমতার স্বার্থে মেয়েরাই মা হন, নাহলে ছেলেরাও হতেন। ঈশ্বর সেভাবে সৃষ্টিই করেননি তাদের।
||গল্প প্লট- কাল্পনিক||
( লেখা - Pritam Guha)

